নিজস্ব প্রতিবেদক | ফরিদপুর তারিখ: ৪ মার্চ, ২০২৬
ফরিদপুরের রঘুনন্দনপুরে সুস্থ রাজনীতির সাইনবোর্ড ব্যবহার করে জমি দখলের এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। বিএস দাগ ও পৌরসভার রাস্তার ম্যাপকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জনৈকা শিউলী আক্তার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে এক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার যাতায়াতের পথ রুদ্ধ করার ‘চিত্রনাট্য’ এখন টক অব দ্য টাউন। অভিযোগ উঠেছে, নিজের দখলদারিত্ব ঢাকতে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে ‘ভিকটিম কার্ড’ খেলছেন অভিযুক্ত এই নেত্রী। অনুসন্ধানে জানা যায়, দেশের আকাশ পাহারায় নিয়োজিত একজন ওয়ারেন্ট অফিসার তার বসতভিটার মাত্র ৫ ফুট ৯ ইঞ্চির একটি রাস্তার জন্য দীর্ঘদিন ধরে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। গত ৩০ আগস্ট ২০২৪ তারিখে সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে অবৈধ বেড়া সরানোর নির্দেশ দেওয়া হলেও, তা অমান্য করে উল্টো রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেত্রী শিউলী আক্তারের বিরুদ্ধে। পৌরসভার সার্ভেয়ার রেজাইল করিম সরেজমিনে ফিতা টেনে মেপে জানিয়েছেন যে, রাস্তাটি প্রকৃতপক্ষে দখল করা হয়েছে। কিন্তু বিবাদী পক্ষ সত্যকে মেনে নেওয়ার পরিবর্তে শুরু করেছে ভিন্নধর্মী এক ‘নাটক’ হাসপাতালের বিছানায় ‘অস্কারজয়ী’ শিউলী আক্তারকে হাসপাতালের বেডে শুয়ে করুণ আর্তি জানাতে দেখা যায়। তার অভিযোগ—তাকে নাকি ‘জামায়াতে যোগদানের’ জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে! তবে স্থানীয় সচেতন মহল এবং ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, এটি স্রেফ একটি দুর্বল চিত্রনাট্য। জমি দখলের বিতর্ক থেকে জনদৃষ্টি সরাতে এবং প্রশাসনকে চাপে ফেলতেই এই ‘ধর্মীয় ও দলীয় কার্ড’ ব্যবহার করা হচ্ছে। একজন কর্মরত সৈনিক যেখানে নিজের যাতায়াতের রাস্তার জন্য থানায় জিডি (ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা, ২৭১/২৪) হাতে নিয়ে ঘুরছেন, সেখানে প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসন কি শিউলী আক্তারের সাজানো কান্নার কাছে জিম্মি। স্থানীয় রাজনীতি কি এখন ‘ল্যান্ড গ্র্যাবিং’ বা জমি দখলের এজেন্সিতে পরিণত হচ্ছে নাটকের শেষ এখানেই নয়। গত ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ওই নেত্রীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী লাকী আক্তার বাদী হয়ে আকাশ পাহারাদার কর্মকর্তার নামে একটি ‘ভিত্তিহীন ও বানোয়াট’ মামলা (মামলা নং ৩৫) দায়ের করেছেন। পেনাল কোডের ১৪৩/৩২৩/৩২৫/৩৭৯/৩০৭/৫০৬(২) ধারায় দায়ের করা এই মামলাটিকে স্থানীয়রা ‘হয়রানিমূলক’ হিসেবে দেখছেন। ভুক্তভোগী পরিবার এবং সচেতন নাগরিক সমাজ এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ডিজিএফআই, এনএসআই, র্যাব-১০ এবং পিবিআই-এর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একইসাথে একজন অবসরপ্রাপ্ত উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের জোর দাবি জানানো হয়েছেন