ওসমান হাদী শহিদ হয়েছেন—এই নির্মম ও বেদনাদায়ক সংবাদে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তাঁর শাহাদাত শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং সমগ্র জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। এমন সময় আমাদের আবেগে নয়, বিবেক ও বুদ্ধিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি।
আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে—
দেশকে অস্থিতিশীল করার এই অপচেষ্টার মাধ্যমে আমরা বা আপনারা আসলে কার বিরুদ্ধে লড়াই করছি?
এই লড়াই কি একে অপরের বিরুদ্ধে, নাকি সেই অদৃশ্য শক্তির বিরুদ্ধে যারা দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রকে জিম্মি করে রেখেছিল?
ভুলে গেলে চলবে না—দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার দোসররা এ দেশে এক ভয়ংকর রাজত্ব কায়েম করেছিল। গণতন্ত্রকে হত্যা করে, মানুষের অধিকার হরণ করে, ভিন্নমতকে দমন করে তারা একটি ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করেছিল। সেই সময়ের অনেক রাঘব বোয়াল হয়তো আজ দৃশ্যমানভাবে সরে গেছে, কিন্তু তাদের চ্যালা-চামুণ্ডারা এখনও পুরোপুরি নির্মূল হয়নি।
তারা আজও ঘাপটি মেরে বসে আছে—
আমার, আপনার, আমাদের চারপাশেই।
তারা সুযোগের অপেক্ষায় আছে—অস্থিরতা সৃষ্টি করার, বিভ্রান্তি ছড়ানোর, একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দেওয়ার।
ফ্যাসিস্ট হাসিনা ছিল এক বিষধর সাপ। তার পরাজয় সে কখনোই সহজে মেনে নেবে না—এটাই স্বাভাবিক। পরাজিত ফ্যাসিবাদ আরও বেশি হিংস্র ও ষড়যন্ত্রপ্রবণ হয়ে ওঠে। তাই আজও ষড়যন্ত্র থেমে নেই; বরং রূপ বদলে, কৌশল বদলে তা চলমান রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে আমাদের সবার প্রতি একটাই আহ্বান—
সতর্ক হোন। সচেতন হোন। বিভক্ত হবেন না।
নিজেদের স্বার্থে, দলের স্বার্থে নয় শুধু—
দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকুন।
আবেগে নয়, প্রজ্ঞায় সিদ্ধান্ত নিন।
কারা আমাদের ভেতরে ঢুকে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তাদের চিহ্নিত করুন।
ওসমান হাদীর শাহাদাত যেন আমাদের আরও দায়িত্বশীল করে তোলে, আরও ঐক্যবদ্ধ করে তোলে। শহিদের রক্ত কখনো বিভেদের হাতিয়ার হতে পারে না—তা হওয়া উচিত অন্যায়ের বিরুদ্ধে, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে, ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে এক অদম্য শক্তি।
শহিদ ওসমান হাদীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।
দেশ, গণতন্ত্র ও জনগণের স্বার্থে আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকুক—সচেতন, ঐক্যবদ্ধ ও দৃঢ়ভাবে।
Mohammad Alfaj Dewan
যুগ্ম-আহবায়ক,কৃষকদল গাজীপুর মহানগর।
সিনিয়র সহ-সভাপতি-জিয়া সাইবার ফোর্স।
