নিজস্ব প্রতিবেদক সাভার (ঢাকা):
সাভার উপজেলা পরিষদের নতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে মাহবুবুর রহমানের আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের আগেই তাঁকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। আগামী ১২ই অক্টোবর ২০২৫ইং (রবিবার) তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের কথা থাকলেও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তাঁর রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সাভারের বিদায়ী ইউএনও আবু বক্কর সরকার চট্টগ্রামে বদলি হওয়ার পর, মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার ইউএনও মাহবুবুর রহমানকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয়। তবে এই পদায়নের পরই বিভিন্ন সূত্র তাঁকে ‘আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠজন’ হিসেবে চিহ্নিত করছে।
অভিযোগ উঠেছে যে তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিভিন্ন সুবিধা ও সুযোগ গ্রহণ করেছেন।তিনি “আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান” নামে একটি সংগঠনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।তিনি “বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদ”-এর সদস্য ছিলেন বলেও জানা যায়।আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেনের সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে একটি সূত্র উল্লেখ করেছে।
তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড ও সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয়ভাবেব মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
সাভারের স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও অভিজ্ঞ রাজনীতিকরা প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে: রাজনৈতিক দলের ঘনিষ্ঠ কেউ প্রশাসনিক পদে থাকলে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।সাভারের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় প্রশাসনিক পদে রাজনৈতিক প্রভাব পড়লে সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হতে পারে।তাঁরা চান, সাভারের ইউএনও হবেন নিরপেক্ষ এবং সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য, যিনি দলমত নির্বিশেষে সবার জন্য সমানভাবে কাজ করবেন।
গুরুত্বপূর্ণ সাভার উপজেলায় তাঁর মতো ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ায় সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। দায়িত্ব গ্রহণের আগেই শুরু হওয়া এই বিতর্ক প্রশাসনিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাঁর আগমন সাভারের প্রশাসনে কেমন প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।