বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে জামায়াতে ইসলামী একটি বিতর্কিত নাম। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এ দল সরাসরি স্বাধীনতার বিরোধিতা করে এবং পাকিস্তানপন্থী অবস্থান নেয়। সেই সময় আলবদর, আলশামসসহ বিভিন্ন সহযোগী বাহিনী গঠন করে মুক্তিকামী মানুষদের বিরুদ্ধে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ, নারী নির্যাতন ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর অভিযোগ রয়েছে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে। এ কারণে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের কাছে জামায়াত কেবল একটি রাজনৈতিক দল নয়, বরং দেশবিরোধী শক্তি হিসেবে চিহ্নিত।
ইসলামী দল নাকি ভিন্ন উদ্দেশ্যের সংগঠন?
নামের সঙ্গে ‘ইসলামী’ শব্দ যুক্ত থাকলেও, জামায়াতের কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক আদর্শ অনেকের মতে ইসলামের মৌলিক শিক্ষা ও শান্তির মূলে আঘাত হেনেছে। ইসলামী মূল্যবোধের ছায়া ব্যবহার করে দলটি রাজনীতিকে ব্যবহার করেছে নিজেদের ক্ষমতার স্বার্থে। অনেক গবেষক ও বিশ্লেষক মনে করেন, জামায়াত প্রকৃত অর্থে ইসলামী দল নয়; বরং এটি ক্ষমতা ও আধিপত্য বিস্তারের জন্য ধর্মকে ব্যবহারকারী একটি সংগঠন।
“র*গকাটা দল” পরিচয়
মুক্তিযুদ্ধকালে জামায়াতপন্থী রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনীর সদস্যরা মুক্তিকামী বুদ্ধিজীবী ও নিরপরাধ গ্রামবাসীদের নির্মমভাবে হত্যা করেছিল।
স্বাধীনতা পরবর্তীতে রগ কেটে বা গলা কেটে হত্যা করার নৃশংস পদ্ধতির কারণে জামায়াতকে সাধারণ মানুষ আজও “র*গকাটা দল” বলে অভিহিত করে।
জনমত ও বর্তমান অবস্থান
বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের কাছে জামায়াত ইসলামী একটি ঘৃণিত দল। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সময় জনগণ সারা দেশে মোমবাতি প্রজ্বলন, গণআন্দোলন ও শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে—জামায়াতের কোনো স্থান এই দেশের রাজনীতিতে নেই। এ দলের প্রতি মানুষের ঘৃণা আজও প্রবল, কারণ তারা জাতির সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায় মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল এবং বাঙালি জাতির রক্তে হাত রাঙিয়েছে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে জামায়াতে ইসলামী একটি কলঙ্কিত অধ্যায়। ধর্মের নাম ভাঙিয়ে রাজনীতি করলেও জনগণ বুঝে গেছে এ দল প্রকৃত ইসলামী দল নয়। বরং এটি দেশবিরোধী, স্বাধীনতাবিরোধী ও নৃশংসতার প্রতীক। তাই দেশের মানুষের কাছে জামায়াত ঘৃণার সমার্থক হয়ে দাঁড়িয়েছে।তবে জামায়াতে ইসলামী দল তাদের পূর্বের সকল দূর্নাম মুছে নতুন করে বাংলাদেশের জনগণের মনে আস্থা ফিরিয়ে আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।